করোনার আরেক ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান

coronavirus

করোনাভাইরাসের নতুন আরেকটি ভ্যারিয়েন্টে বেলজিয়ামে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ধরনটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল কলম্বিয়ায়।

সোমবার ৯ আগস্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ওই ভ্যারিয়েন্ট যুক্তরাষ্ট্রেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ইউরোপে এর প্রভাব খুবই কম। কিন্তু এবার এটি ইউরোপেও সংক্রমিত করল।

বেলজিয়ামে যারা মারা গেছে, তারা সবাই একটি নার্সিং হোমের বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার (৬ আগস্ট) বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছে, মৃতরা সবাই করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছিলেন।

ফলে নতুন করে এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব লিউভেনের ভাইরোলজিস্ট মার্ক ভ্যান র‍্যানস্ট বলেন, তাদের বয়স ছিল ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে।

কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই বেশ নাজুক ছিল। ভাইরাসবিদরা জানান, করোনার নতুন এই ধরনটি হলো ‘বি.১.৬২১’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটির এখনও কোনো নামকরণ করেনি।

বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নয় এটি (বি.১.৬২১) ডেল্টা বা ল্যামডার মতো ধরনের চেয়ে অধিক সংক্রামক কি না। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের তথ্য অনুসারে, করোনার কলম্বিয়ার ধরনটির বিরুদ্ধে টিকা খুব কম কাজ করে।

এদিকে করোনার ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট চীনা ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গুয়াংঝুর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ঝুয়াং শিলিহে বলেছেন, চীনের তৈরি কোভিড ভ্যাকসিন পেরুর ল্যামডা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও কার্যকর।

তবে চীনা বাসিন্দারা চিন্তিত যে নতুন ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট হয়তো ভ্যাকসিনকে অকার্যকর করে ফেলবে। আর ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়াবে। যা থেকে মানুষ সহজে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না।

পেরুর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কোভিড ১৯ মৃত্যুরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর। গত ১৭ জুলাই চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি জাপানে ছড়িয়ে পড়েছে ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট। অন্যদিকে চীন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৮৩ শতাংশ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এরমধ্যে তারাও ল্যামডা ভ্যারিয়েন্টের কবলে পড়েছে।

ল্যামডা ভ্যারিয়েন্ট সি.৩৭ নামেও পরিচিত। ল্যামডা ভ্যাকসিনকেও কাবু করে ফেলে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন জাপানের বিজ্ঞানীরা।

গ্লোবাল সায়েন্স ইনিশিয়েটিভ সংস্থা জিআইএসএইডের মতে, ল্যামডা দক্ষিণ আমেরিকার আটটি দেশে ও বিশ্বজুড়ে ৪১টি দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

ল্যামডা প্রথম শনাক্ত করা হয় পেরুতে। বলা হচ্ছে, এটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অতি সংক্রামক। তবে অনেক দেশেই ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

কারণ, বিশ্ব এখন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। নতুন করে এই ভ্যারিয়েন্ট ‘বিশেষ মনোযোগ’ আকর্ষণ করতে পারছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চীনের উহান থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাসের চেয়ে ল্যামডা বেশি শক্তিশালী।

Source link

admin

Read Previous

উন্নয়নের গল্প শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত : রিজভী

Read Next

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে জেইউজের দু’দিনের কর্মসূচি গ্রহণ