আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি ক্ষমতায় যে-ই আসুক না কেন,তার দাপটের কোন কমতি থাকে না। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলেও যেভাবে দাপটে ছিলেন এখনো ঠিক একই দাপটে।কারন,তাদের একই পরিবারে রয়েছে আওয়ামীলীগ - বিএনপির অনুসারীর নেতৃবৃন্দ।
আর সেই সুযোগেই নিজে অবৈধ সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বনে যান কোটি টাকার মালিক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত আজগর একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে রয়েছে অবৈধ মিটবনের ব্যবসা।যেই মিটবন কয়েক বছর আগেই নিষিদ্ধ করা হয় বাংলাদেশে।নিষিদ্ধ এই পণ্য একমাত্র দাপট ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব না।আর যেই দলই ক্ষমতা আসুক না কেন সেই দাপট ব্যবহার করে আজগর ধরে রেখেছে তার এই সাম্রাজ্য। এছাড়াও চোরাই মাল সহ ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে বিক্রি করেন মাছ ও মুরগীর খাদ্য।
নগরীর চাক্তাইর ৩৫ নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন আজগরের এক ভাই মোঃ আলমগীর। আজগরের সকল অবৈধ কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রক ছিল অভিযুক্ত আলমগীর। দলীয় দাপট দেখিয়ে গত ১৭ বছরে চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে গড়ে তুলেছেন চাঁদাবাজির রাজত্ব।ক্ষুদ্র থেকে বড় কোন ব্যবসায়ীই ছাড় পায়নি তার হাত থেকে।ক্ষমতা পালাবদলের পর এসবের দায়িত্বে এখন তার আরেক ভাই দিদার। যে নিজকে পরিচয় দেয় যুবদলের কর্মী হিসেবে।কিন্তু বাস্তবে তার চরিত্র সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একাধিক ব্যবসায়ীকে সে আওয়ামীলীগ করার ভয় ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। এছাড়াও যারা চাঁদা দিতে রাজি হতো না এমন ব্যক্তিদের তুলে দিতো তার পরিচিত প্রশাসনের লোকদের হাতে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট রাতে চাক্তাইয়ের এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা মারেন চাঁদার জন্য।ওই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দলবল নিয়ে মহড়া দেন দোকানের সামনে। পরে মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে ঐ ব্যবসায়ীকে দোকান খোলার অনুমতি দেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী জানান, ৫ই আগস্ট রাতে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন দিদার ও তার ভাই আজগর। তিনি রাজি না হলে দোকান কিভাবে খুলবে তারও হুমকি দেন।
সূত্র বলছে, আওয়ামী সম্পৃক্ত থাকা ব্যবসায়ীরা এলাকা ত্যাগ করলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে এলাকায় পূর্নবাসনের দায়িত্ব নেন এই দিদার, টাকা পয়সার মধ্যেস্থা করতেন তারই ভাই যুবলীগ নেতা আজগর। ৫ই আগস্ট থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ী টিপু,রিংকু বাবু,হাসান সহ ১০ জনেরও অধিক ব্যবসায়ীকে চাঁদার জন্য মারধর করেন দিদার।বাদ পরেনি ট্রাক চালকও।শুধু চাঁদবাজিই নন ভূমি দখলেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে দিদার সহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে।আজগর বিগত সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার ভাই আলমগীরের সহয়তায় রাজাখালী বিশ্বরোডের পাশে দখলে রাখেন একটি যানবাহন মাপার স্কেল।ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও বেদখল হয়নি ওই স্কেলটি কারন তার ভাই দিদার এখন বিএনপির মস্তবড় নেতা।
আওয়ামী সরকার আমলে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় ইতি মধ্যে আজগরের অঠেল সম্পত্তি বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায় তথ্য সূত্রে। শুধু তা নয় আঁতকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসি। এসবের সুরাহা পেতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় থানায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও রয়েছে।শুধু তা নয় চট্টগ্রাম আদালতে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা। শত শত অভিযোগের পর টাকার জোরে ক্ষমতা ব্যবহার করে এ-সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আজগরের পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনেরও কথিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও নামধারী গুটিকয়েক বিএনপির নেতা।সরাসরি আজগরের বিরুদ্ধে ভয়ে কথা বলতে নারাজ স্থানীয় লোকজন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী বড় ভাই ছিল আওয়ামী লীগের বড় নেতা এখন আরেক ভাই বিএনপির নেতা হওয়ার সুবাদে এ-সব অপকর্ম করতে সাহস পায়।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজগরকে ফোনে পাওয়া না গেলেও কথা হয় তার ভাই দিদারের সাথে, এসব ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে দিদার বলেন এসব ভিত্তিহীন নেই কোন প্রমান। তবে তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্হানীয় বিএনপির নেতারা। এসময় তারা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি কামনা করেন।