শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

তিন দিনের বৈশাখী আয়োজনে উৎসবে আসবে নতুন মাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৫, ০৩:০৩ এএম

তিন দিনের বৈশাখী আয়োজনে উৎসবে আসবে নতুন মাত্রা

পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন আর নতুন উদ্যমে পথচলার শপথ। তবে এবারের বৈশাখ উদযাপনটা একটু ভিন্নভাবে করতে চায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একদিনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে এবার বৈশাখের উৎসব চলবে তিন দিন। গুলশানের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ পার্কে ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে নানা আয়োজন। দেশীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য আর নাগরিক জীবনের ছোঁয়ায় বর্ষবরণ এবার আরও প্রাণবন্ত হবে বলে আশা আয়োজকদের।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রথম আলোকে বলেন, "এবারের পহেলা বৈশাখ হবে সত্যিকারের নাগরিক উৎসব। অতীতে বৈশাখ উদযাপন একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। আমরা চাই, সবাই যেন নিজেদের সুবিধামতো সময় বের করে এই উৎসবে অংশ নিতে পারেন। সে কারণেই এবার তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

তিন দিনের এই আয়োজন জুড়ে থাকবে বাচ্চাদের জন্য লোকজ খেলার ব্যবস্থা, যেখানে তারা মাটির খেলনা ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলায় মেতে উঠতে পারবে। থাকবে বুক ক্যাফে, যেখানে বাংলা সাহিত্যের বইয়ের পাতা উল্টে জানা যাবে ইতিহাস আর সংস্কৃতির গল্প। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে প্রকাশিত হবে একটি বই, যা নগর সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য সংযোজন হবে।

নববর্ষ উদযাপনে সংগীতের আলাদা আকর্ষণ থাকছেই। নগর ফোক ও লোকসংগীতের ধারায় বাউল, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালির সুর ছড়িয়ে পড়বে পুরো পার্কজুড়ে। দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে থাকবে সমসাময়িক সংস্কৃতির সংযোগ, যেখানে দর্শনার্থীরা একদিকে বৈশাখী আনন্দ উপভোগ করবেন, অন্যদিকে পাবেন নাগরিক বিনোদনের স্বাদ।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, তিন দিনের এই আয়োজনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে ‘ক্যাচ বাংলাদেশ’, পাশাপাশি একাধিক স্পন্সর যুক্ত হয়েছে আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করতে।

সবাইকে এই উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, "আমরা চাই, নববর্ষ শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সত্যিকারের নাগরিক উৎসবে পরিণত হোক, যেখানে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর সৌহার্দ্য একই স্রোতে মিশে যাবে।"

তিন দিনের এই নববর্ষ উৎসব তাই শুধু নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি হয়ে উঠবে ঢাকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর নাগরিক জীবনের এক অনন্য মেলবন্ধন।