শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএনসিসির বড় উদ্যোগ: সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নামছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএনসিসির বড় উদ্যোগ: সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নামছে

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেবে। সোমবার (১৭ মার্চ) ডিএনসিসি আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য জানান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। তাই আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ডিএনসিসির সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, নগরীর গণপরিসরগুলোতে মশা নিধনের আধুনিক ফাঁদ স্থাপন করা হবে এবং ডিএনসিসির ব্যবহৃত কীটনাশকগুলোর কার্যকারিতা একটি নিরপেক্ষ ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে, যাতে কার্যকর উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনা. মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনা. ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগের অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোগ : গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার লক্ষ করা যায়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন এবং বহু প্রাণহানি ঘটে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।

এর আগে ডিএনসিসি মশা নিধনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও জনসচেতনতার অভাব, কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক এবং অপর্যাপ্ত নজরদারির কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। তবে এবার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার—এ তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আরও সচেতন করতে চলমান প্রচারাভিযান জোরদার করা হবে।