জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ অভিনয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখেন। তিনি শুধু রূপালি পর্দায়ই নয়, সমাজ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সবসময় সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সোচ্চার থাকেন।
সম্প্রতি প্রাণিকল্যাণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজী নওশাবা আহমেদ যুক্ত হয়েছেন ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন (ডিইএসসিএফ)’-এর সঙ্গে। তিনি এই সংস্থার ‘অ্যাম্বাসেডর ফর ওয়াইল্ডলাইফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১৮ মার্চ ডিইএসসিএফ-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরিবেশ ও সমাজসেবামূলক কাজের পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নওশাবা সরব হয়েছেন ফিলিস্তিনের নিরীহ শিশুদের ওপর ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে দৈনিক আজকের বাংলাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নওশাবা বলেন, “কোনো অপমৃত্যু আমি সহ্য করতে পারি না, আর এখানে তো নিরীহ নারী-শিশুদের বোমা ফেলে হত্যা করা হচ্ছে। আজ আমি বাংলাদেশে বসে রোজা রেখে ভাবছি ইফতারে কী থাকবে, অথচ আমাদের ফিলিস্তিনের ভাই-বোনেরা রোজা রেখে ভাবছে—কখন যেন আবার বোমা এসে পড়ে! আমি মানুষ হিসেবে এটা কীভাবে মেনে নিই?”
তিনি আরও বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চাদের মৃতদেহ, তাদের বাবা-মায়ের আর্তনাদ, চিৎকার—সবকিছু প্রতিমুহূর্তে আমার কানে বাজে।”
অনেকে আশঙ্কা করেন, এ ধরনের পোস্ট করালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিচ কমে যায়, নানারকম রেস্ট্রিকশনের মুখে পড়তে হয়। তাহলে আপনি কেন ব্যতিক্রম? এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাবা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আমার কাছে শুধুই নিজেকে উপস্থাপন করার মাধ্যম নয়। বরং এটি আমার স্বাধীন মত প্রকাশের জায়গা। এর মাধ্যমে যদি সমাজ, দেশ কিংবা পৃথিবীর জন্য সামান্যতম কিছু করতে পারি, সেটাই আমার বড় পাওয়া। রিচ বা রেস্ট্রিকশন আমার কাছে গুরুত্ব পায় না, যতটা গুরুত্ব পায় ফিলিস্তিনের নিরীহ ভাই-বোনেরা। সৃষ্টিকর্তা তাদের নিরাপদ রাখুন, এবং পৃথিবীর কোথাও যেন আর রক্তপাত না হয়।”
নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি কাজী নওশাবা আহমেদ প্রাণী সংরক্ষণ ও সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন, যা তার ভক্তদের মাঝে প্রশংসা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।