শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

ন্যায্যতার নগর ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার: গ্লোবাল হেলদি সিটিজ সামিটে ঢাকার প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৫, ০৪:০৩ এএম

ন্যায্যতার নগর ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার: গ্লোবাল হেলদি সিটিজ সামিটে ঢাকার প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্মেলন ‘পার্টনারশিপ ফর হেলদি সিটিজ সামিট ২০২৫’। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিজ ও প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ৬১টি শহরের মেয়র ও নগর প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এই সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি ঢাকাকে ‘ন্যায্যতার শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “ঢাকাকে শুধু স্বাস্থ্যকর বা সবুজ শহর বললেই চলবে না, এটি হতে হবে ‘ন্যায্যতার শহর’। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত না করলে নগরীর প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, গুলশান-বনানীর মতো উন্নত এলাকাগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়েছে, কিন্তু ঢাকার অন্যান্য অংশগুলোর দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বস্তিবাসী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

শহরের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক। তিনি বলেন, “ঢাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘সিটি পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা দরকার।” নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

এ ছাড়া নগরবাসীর জন্য নগর ছাত্রাবাস, বিশ্রাম কেন্দ্র ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সামিটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, “শহরগুলো অসংক্রামক রোগ ও আঘাত প্রতিরোধের প্রথম ফ্রন্টলাইন।”

তিনি আরও বলেন, “সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শহর গড়তে WHO সিটি কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে।”

২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘পার্টনারশিপ ফর হেলদি সিটিজ’ বর্তমানে ৭৪টি শহরের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগরগুলোতে স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার মতো মেগাসিটির জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন ও ন্যায্যতার সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে কতদূর এগোয়।