নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
কর্মস্থলে অভিযোগের পাহাড় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
দুদক কক্সবাজারের উপপরিচালক (ডিডি) সুবেল আহমেদ। সম্প্রতি তাকে কক্সবাজার থেকে দুদক চট্টগ্রাম-১ এ বদলি করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্বের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭-২০০৮ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল শাখার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন সুবেল আহমেদ। ২০১৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন তিনি। দুদকের চাকরি পেতে তদবির করেছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি সুমনের সম্পর্কের চাচাত ভাই হন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন অফিসের এক আদেশে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় কক্সবাজার থেকে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সুবেল আহমেদকে বদলি করা হয়। ওই আদেশে তিনি ছাড়াও আরো বিভিন্ন পদে থাকা আট কর্মকর্তার বদলির আদেশ দেয়া হয়।
চাকরির ৫ বছর পাঁচদিনের মাথায় সহকারী পরিচালক থেকে ডিডি পদে পদোন্নতি লাভ করেন সুবেল আহমেদ। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় কক্সবাজারে ডিডি হিসেবে যোগদান করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দুদক ইতিহাসে এই প্রথম অল্প সময়ে সহকারী পরিচালক পদ থেকে ডিডি পদে পদোন্নতি পান এই কর্মকর্তা। এ ধরনের ঘটনা দুদক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারে থাকাকালীন সময়ে সাবেক কক্সবাজার সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সমেশ্বর চক্রবর্তীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো সুবেল আহমেদের। ওই অধ্যক্ষ ছিলো ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা (র) এর সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে জনশ্রুতি রয়েছে।
একইসঙ্গে নিজ দফতরের পার্থ পাল চৌধুরীর নামে কক্সবাজারের দুদকের সহকারী পরিচালককে কাজ নিয়ে প্রায় মানসিক নির্যাতন করতেন এই কর্মকর্তা। এসব নির্যাতনের ফলে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ওইদিন তার অসুস্থতাবোধ গুরুতর হলে একপর্যায়ে ভর্তি করানো হয় কক্সবাজার মেডিকেলে আইসিইউতে। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ হলে পিরোজপুরে বদলি হয়ে চলে যান ওই সহকারী পরিচালক।
কক্সবাজার দুদকের সহকারী পরিচালক তুষার আহমেদ। তাকেও বিভিন্ন সময় কাজ নিয়ে হুমকি দিতেন সুবেল আহমেদ। তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) না দেয়ার কথা বলতেন প্রায়। বিভিন্ন সময়ে শোকজের ভয়ও দেখাতেন তিনি। পরবর্তীতে তার এসব অত্যাচারে সহ্য করতে না পেরে বদলি হয়ে নারায়নগঞ্জে চলে যান ওই সহকারী পরিচালক।
এছাড়া, কক্সবাজার আরেক দদুক কর্মকর্তা আল আমিন। তিনি সেখানকার দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা। তাকেও প্রায় মানসিক নির্যাতন করতেন সুবেল আহেমদ। তার নির্যাতনের বিষয়টি সবার জানা ছিলো। পরে তিনিও সেখান থেকে বাধ্য হয়ে ঢাকায় বদলি হয়ে চলে যান।
২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের তিন সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে। এ অভিযোগ থাকা তিনজনের মধ্যে কক্সবাজারের ডিডি সুবেল আহেমদের নাম রয়েছে।
ওই অভিযোগ বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ডিডি সুবেল আহেমদ দুদকে আসা অভিযুক্তদের কাছ থেকে বড় অংকের ঘুষ নিতেন। এসব ঘুষ নিতেন ডলারে। তার নামে-বেনামে ঢাকা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সিলেটের হবিগঞ্জের জনৈক এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি। ঢাকা খিলগাঁওয়ে তার বড় বাড়ি রয়েছে। সম্প্রতি ধানমন্ডিতে বেনামে চারকোটি টাকা দামের ফ্ল্যাট ক্রয় করেন তিনি।
এছাড়াও তার স্ত্রী সন্তানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন সুবেল আহমেদ। কক্সবাজারে থাকাকালীন সময়ে এক ব্যবসায়ির কাছ ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেন তিনি।
পরবর্তীতে টাকা নেয়ার পর
দুদকের মামলায় জড়িয়ে দেন তিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সুবেল আহেমদ আমাদের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। আপনি (প্রতিবেদক) যাচাই-বাচাই করেন। আমি সততা নিয়ে কাজ করছি বিধায় এসব অভিযোগ তুলছে আমার বিরুদ্ধে। নিজ দফতরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমি কখন ও এ ধরনের কাজ করিনি। এসব সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সংযোগ এই প্রতিবেদকের ফোনটি রিসিভ করেননি।