পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা আর সবুজে ঘেরা ৫৭ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। আয়তনে ছোট্ট এই দেশে এপর্যন্ত মোট ৭৩০ টি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের (ভারতীয়) এশীয় বেশ কিছু প্রজাতির পাখির বিস্তৃতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম Great ম্যনা বা ধলাতলা শালিক। পাখিটির একদম বিরল দর্শন। এই পাখি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিতভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেখা গিয়েছে বলে জানা যায়।
বিরল প্রজাতির এই পাখিটির দেখা মিলে সিলেটের কানাইঘাট বড় হাওরে। সম্প্রতি সিলেটে ঘুরতে আসা ফটোগ্রাফার নাকিব ও তার টিমের ক্যামেরায় বন্দী হয় এই পাখিটি।
ফটোগ্রাফার নাকিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পাখি দেখা বা পাখির ছবি তোলার সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোটামুটি যাতায়াত তাদের। তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও পারিবারিক সূত্রে সিলেটে যাতায়াত-টা একটু বেশিই হয়। যেহেতু বিগত বছরগুলোতে সিলেট অঞ্চলে ধলাতলা শালিক অনিয়মিত হলেও দেখা গিয়েছে। সেই থেকে মনে আশার সঞ্চার হয় কবে তার দেখা পাবো ভাগ্য সহায় হলে ছবিও তুলবো এই আশায় মগ্ন।
তিনি বলেন, গত এক বছরে অন্তত বার পাঁচেক সিলেটে গিয়ে এদের অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাখিটির কাঙ্খিত দেখা মিলেনি।
ছবিটির পেছনের গল্প জানতে চাইলে নাকিব বলেন, হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মানু্ষের উপস্থিতি খুব কম। কিছুক্ষণ পরপর একজন-দুজনকে দেখা যাচ্ছে, মহিষের পাল চড়াতে।
আমি আর রিদওয়ান একমনে প্রকৃতির অকৃপণ সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি। শামীম ভাইয়ের ডাকে সৎবিৎ ফিরে পেতেই রীতি মতো চক্ষু চড়কগাছ! কিছুটা দূরে একদল মহিষের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে বেশকিছু ঝুঁটিওয়ালা শালিক! তবে আকারে কিছুটা বড়! হ্যাঁ! বহুল কাঙ্খিত ধলাতলা-শালিক। কাছে গেলে উড়ে যায় পাছে, সেই আশঙ্কা থেকে সিএনজিতে বসেই অপলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাদের দেখলাম। এবার ছবি তোলার পালা। তারা যেনো বিরক্ত না হয়, সিএনজিতে বসেই ক্যামেরার জুম সক্ষমতার সর্বোচ্চটা ব্যাবহার করে একদম নিশ্বাস বন্ধ করে একের পর এক ক্লিক করে গেলাম।
আমরা কোনোভাবেই চাচ্ছিলাম না আমাদের দেখে তারা বিরক্ত হোক বা ভয় পেয়ে উড়ে যাক। এভাবেই কয়েক মিনিট পালা করে দেখা আর ছবি তোলা চললো কাঙ্খিত এই পাখিটির।
অবশেষে চক্ষু-মনের বিবাদ ভঞ্জন হলো। এতোদিন খোঁজেও কাঙ্খিত ধলাতলা শালিক দেখতে না পাবার অপেক্ষা এবং আক্ষেপের গল্পের ইতি ঘটে।