শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

দখল-দূষণে খরস্রোতা রত্না নদী অস্তিত্ব সংকটে

নদী দখল করে ৭ টি কালভার্ট নির্মাণ

জিতু আহমদ, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৫, ১২:০৩ এএম

দখল-দূষণে খরস্রোতা রত্না নদী অস্তিত্ব সংকটে

অবৈধ দখল-দূষণে সিলেটের ওসমানীনগরের এক সময়ের খরস্রোতা রত্না নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বাজার ও বসতবাড়ির বর্জ্য নদীতে ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে স্থানীয়রা। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক কালভার্ট। 

দখল করে দফায় দফায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। ফলে, অল্প বৃষ্টিতে বন্যার শিকার হচ্ছেন এই এলাকার মানুষ। অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না খালটিতে। যেকারণে কৃষি কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এক সময়ের খরস্রোতা রত্না নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। নদীর নাব্যতা ফিরে পেতে দখল ও দূষণ মুক্ত করে খননের দাবি এলাকাবাসীর।

খাল রক্ষায় বার বার অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান হস্তিদুর গ্রামের তুতিউর রহমান চৌধুরী তোতা মিয়া।

তিনি বলেন, খাল ভরাটের জন্য বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এখানে বন্যা দীর্ঘ মেয়াদী থাকে। আর শুকনো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খালের প্রশস্থতা অনুযায়ী কালভার্টগুলো নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল।

জানা যায়, উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কালাসারা হাওর থেকে প্রমত্তা রত্না নদীর শেষ চিহ্ন দাশপাড়া খাল হয়ে দয়ালং হাওরে পানি প্রবাহিত হয়। প্রায় দুই যুগ পূর্বেও এই খাল দিয়ে সব ধরনের নৌকা চলাচল করতে দেখা গেলেও এখন পানি চলাচলও করতে পারে না। খালের গয়নাঘাট থেকে কালাসারা হাওর অংশে প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য রয়েছে। খাল সংলগ্ন বসতবাড়িতে যাতায়াতের জন্য খালটি দখল করে কম উচ্চতা ও দৈর্ঘের ছোট-বড় ৭ টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো কালভার্ট নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ কালভার্টের উপর স-মিলের গাছ রেখে ব্যবসা করছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে খালটি ভরাট হয়ে গেলে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে চলতি বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খনন করা খালের বিভিন্ন স্থান ভরাট করে খালের প্রশস্থতা কমিয়ে সরু কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। সম্প্রতি খালটির পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ফলে খালের দুই পাশের জায়গার কদর বেড়ে গেছে কয়েকগুন। তাই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কালভার্ট নির্মাণ করে বাড়ি-ঘর বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  

এদিকে, খালটিতে চলমান একটি কালভার্ট নির্মাণের খবর পেয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন খালটি পরিদর্শন করেছেন। 

খালে কালভার্ট নির্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, খবর শুনে খালটি পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে কালভার্ট নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।

শুধু খালে কালভার্ট নির্মাণই নয়। দখল ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে উপজেলার খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং গ্রীষ্মে পানির অভাবে প্রতিবছর অনেক জমি পতিত পড়ে থাকছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (সেচ উইং) সিলেটের বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।