প্রাণিকল্যাণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন (ডিইএসসিএফ)’-এর ) ‘অ্যাম্বাসেডর ফর ওয়াইল্ডলাইফ’ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী কাজী নওশাবা আহমেদ। ১৮ মার্চ সংস্থাটির ফেসবুক পেজে ঘোষণাটি দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী কাজী নওশাবা আহমেদ সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। প্রাণিকল্যাণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজী নওশাবার সংবেদনশীলতা সকলেরই জানা। তার হাত ধরে প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে সংস্থাটি।
প্রাতিষ্ঠানিক এই সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে কাজী নওশাবা আজকের বাংলাকে বলেন, ‘যে কোনো প্রাণের প্রতি আমার সহমর্মিতা আছে। ডিইএসসিএফ বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে বলে আমি ওদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শৈশব থেকেই আমি প্রাণের প্রতি সদয়। এখনও দেখা যাচ্ছে, কত বন্যহাতি মারা যাচ্ছে, হাতিদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, অকারণে মানুষ সাপ মেরে ফেলছে, এসব আমাকে পীড়া দেয়। বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে আমি আওয়াজ তুলেছি। প্রাণীর জীবন রক্ষা করতে মানুষের মধ্যে আমি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চাই। সংস্থাটি অনেক দিন ধরে আমাকে অনুসরণ করতো। তারা আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালে আমি সাড়া দিয়েছি। আশা করি সামনে আরও ভালো কাজ করবো।’
নওশাবা আজকের বাংলাকে আরও জানান, আমি প্রাণের প্রতি সবসময় সহানুভূতিশীল। ডিইএসসিএফ যখন আমাকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়, আমি আনন্দের সাথেই সম্মত হই। প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই আমার এই যুক্ত হওয়া। আমি চাই বাংলাদেশে কোনো চিড়িয়াখানা না থাকুক, প্রানী ও মানুষের সহঅবস্থান এবং দেশের বনসম্পদ রক্ষা করা। যে কোনো প্রাণীকেই খাঁচায় দেখলে আমার কান্না পায়, তাই আমি চাই বাংলাদেশে কোনো চিড়িয়াখানা না থাকুক কিন্তু সাফারি পার্ক হতে পারে। প্রকৃতির ভারসাম্য ও প্রানীদের বসবাসের জায়গা দিনদিন বিলুপ্ত হওয়ার কারণেই দেখা যায়, প্রানীরা লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষের নির্মমতার শিকার হয়। যার কারণে অবশ্যই দেশের বনসম্পদ রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা যেন সবাই বুঝি বন্যরা বনেই সুন্দর। মানব ও প্রাণীর সহাবস্থানের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে আমার লক্ষ্য।”