রাজধানীর বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু ঘটনার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। এতে মহাখালী-বনানী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
সোমবার (৭ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি ইউটার্ন ইনকামিংয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এক নারীর মৃত্যু এবং একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোন পরিবহন দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে গাড়িটি আটকের চেষ্টা চলছে।
সড়ক অবরোধ ও শহরজুড়ে যানজট
সোমবার ভোরে নারী শ্রমিকের মৃত্যুতে গার্মেন্টসকর্মীরা বনানী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। ইনকামিং ও আউটগোয়িং উভয় দিকের রাস্তা বন্ধ থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে গেছে। এমনকি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে যানজটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যানজট এড়াতে বনানী-কাকলী ক্রসিং ও মহাখালীর আমতলীতে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। বিকল্প রুট হিসেবে গুলশান-২, গুলশান-১ হয়ে আমতলী দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও যানজট নিরসন হচ্ছে না।
এদিকে এই যানজটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো রাজধানীজুড়ে। বিশেষ করে রামপুরা, শাহবাগ, মিরপুর রোড, পল্টনসহ সিংহভাগ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টার আটকে আশে শতশত গাড়ি।
ভোগান্তিতে নগরবাসী
মহাখালী-বনানীর সড়ক অবরোধের কারণে সৃষ্ট যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
নাদিয়া সোমা নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেজগাঁও পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। ঘটনা কী?’
তাসমিন সুলতানা চৈতী জানতে চেয়েছেন, ‘উত্তরা থেকে ধানমন্ডি এখন কীভাবে যাবো?’
সামস রহমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘নতুন রাস্তা, আগারগাঁও থেকে পুরাতন এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পুরোটা জ্যাম। গাড়ি নড়ছেও না। এখন কী করবো?’
সড়কে শত শত যানবাহন আটকে থাকায় অনেকেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বিশেষ করে অফিসগামীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শরিফা আক্তার বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তিনি বলেন, ‘সকালে অফিসে যেতে পারিনি। এখন অফিসের বস বলছেন, যেভাবে হোক অফিসে যেতে হবে। তাই রোজা রেখে প্রায় ৪ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে অফিসে আসতে হয়েছে।’
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে, যাতে তারা সড়ক ছেড়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এখন পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার বলেন, ‘ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন পোশাকশ্রমিক মারা গেছেন, আরেকজন আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা তিন জনের মৃত্যুর দাবি করলেও আমরা এখন পর্যন্ত দুই জনের তথ্য পেয়েছি। সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’
এদিকে, ডিএমপি ট্রাফিকের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফুদুল ইসলাম জানান, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মহাখালী-বনানী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে গাড়ি ডাইভারশন করে দিচ্ছি। কিছু গাড়ি ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে, কিছু রামপুরা রোড ও প্রগতি সরণি দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’