ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এটি বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের বংশধর সুলতান নাছিরুদ্দীন মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে নির্মাণ করা হয়। খানজাহান আলী দিল্লী থেকে এসে সুন্দরবন অঞ্চলে ইসলামিক খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাগেরহাট শহরকে তাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। এই মসজিদটি ছিল তাঁর বৃহত্তম কীর্তি।
মসজিদটির আকার বেশ বড়। মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ ফুট ও প্রস্থ ১০৪ ফুট। মসজিদের ভেতরের দৈর্ঘ্য ১৪৩ ফুট ও প্রস্থ ৮৮ ফুট। দেয়ালগুলোর পুরুত্ব প্রায় ৮.৫ ফুট।
মসজিদটির গম্বুজের সংখ্যা মোট ৮১। তবে লোকমুখে এটি ষাটগম্বুজ নামে পরিচিত। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজের কারণে মসজিদের নাম সাত গম্বুজ থেকে ষাটগম্বুজ হয়ে গেছে। কিছু গবেষক মনে করেন, গম্বুজের সংখ্যা ৬০টির স্তম্ভের ওপর নির্মিত হওয়ার কারণে মসজিদটির নাম ষাটগম্বুজ হয়েছে।
মসজিদের দেয়ালে ১১টি বড় খিলানযুক্ত দরজা রয়েছে। যার মধ্যে মাঝের দরজাটি সবচেয়ে বড়। এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ৭টি করে দরজা এবং মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার রয়েছে। মিনারগুলোর উচ্চতা ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। দুটি মিনারে সিঁড়ি রয়েছে, যেখানে আজান দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
মসজিদের ভেতরে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে। যা ৬টি সারিতে বিভক্ত। ৫টি স্তম্ভ ইটের হলেও বাকি স্তম্ভগুলো পাথরের। মসজিদের গম্বুজ এই স্তম্ভগুলোর ওপর স্থাপন করা হয়েছে।
মসজিদটি বর্তমানে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বাহারি ফুলের গাছ দিয়ে আঙিনা সাজানো হয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, খানজাহান আলী ৯০ বছর বয়সে এই মসজিদে এশার নামাজরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কবর মসজিদের পাশের দিঘির পাড়ে অবস্থিত।
মোগল আমলে ঢাকা বাংলার রাজধানী হওয়ায়, ষাটগম্বুজ মসজিদ একসময় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। তবে ২০১৪ সাল থেকে এটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এখানে রেস্ট হাউস ও গেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শকদের জন্য টিকিট সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
কিভাবে যাবেন :
ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাসে বাগেরহাট যেতে পারেন। গাবতলী থেকেও বাগেরহাটে যাওয়ার বাস রয়েছে। সময় নিয়ে যাতায়াত করতে চাইলে বাগেরহাট থেকে মোংলা গিয়ে সুন্দরবন ঘুরে আসা সম্ভব। বাগেরহাটে থাকার জন্য কিছু হোটেল রয়েছে, তবে সেখানে থাকার ব্যবস্থা সীমিত।