বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

দোসরদের দখলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

ধারাবাহিক প্রতিবেদন ০১

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

দোসরদের দখলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

 

• ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ মিছিলের সেই ছাইফুল আলম এখন ডিজি

• পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ উইং) মোঃ হাবিবউল্লাহ্ কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান

• উপ পরিচালক আমিনুল ইসলাম পারলে নিউজ করেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের আগের দিন ৪ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বর্তমান ডিজি মো. ছাইফুল আলম ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ খামারবাড়ির অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে একটি রাজনৈতিক মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জানা যায়, ডিএইর বর্তমানে ২৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। সরকার বদলের পর মাত্র ৯-১০টি প্রকল্পে নতুন পিডি দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোতে আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা বহাল আছেন। এ অবস্থায় বাকি প্রকল্পগুলোতেও পরিবর্তন আনতে হবে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়মবহির্ভূতভাবে অধিদপ্তরের প্রস্তাব ছাড়াই কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। এসব বদলির মাধ্যমে কৃষিবিদদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে অনেকে মনে করেন।

‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ মিছিলে উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিজি মো. ছাইফুল আলম দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, "মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছি।" কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিছিলে অংশগ্রহণ করতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ উইং) মোঃ হাবিবউল্লাহ্ কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, উপ পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রদলের নেতা ছিলাম, এসব আমাকে বলে লাভ নেই। পারলে নিউজ করেন।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে পূর্বতন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত সুবিধাভোগী আমলাতন্ত্র। যে সব কর্মকর্তা সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নিয়েছেন এবং আন্দোলন দমন চেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, তারা আজ যদি পূর্বের মতোই বহাল থাকেন, তবে তা গণআন্দোলনের মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী নুরুল কাদের সোহেল দৈনিক আজকের বাংলাকে বলেন, "বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত সুবিধাভোগী আমলাতন্ত্রের রেশ। বিশেষত, কৃষিখাতের ক্ষেত্রে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুস্পষ্ট ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, কৃষিখাত একটি কৌশলগত খাত—এখানে অদক্ষতা, রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা অতীতের সুবিধাভোগীদের উপস্থিতি ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।"

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান আজকের বাংলাকে বলেন, "বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত, দ্রুত একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে থাকা সুবিধাভোগীদের তালিকা করে, সেসব স্থানে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া। কৃষিখাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই গণঅভ্যুত্থান যেন আরেকটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর উত্থানে রূপ না নেয়। বরং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জনমুখী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সকল রাজনৈতিক পক্ষের মূল লক্ষ্য।"